সাম্প্রতিক খবর

সমাজ সমীক্ষা সংঘ’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য স্বাধীনতা উৎসব এর প্রস্তুতি সভা
————————————————–

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আগামী ২৬ মার্চ কদম মোবারক স্কুল চত্বর ও চেরাগী মোড় চত্বরে সমাজ সমীক্ষা সংঘ কতৃক অনুষ্ঠিতব্য দিনব্যাপী স্বাধীনতা উৎসব এর প্রস্তুতি সভা আজ সংগঠনের কার্যালয়ে দেবাশীষ রায় এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাধীনতা উৎসব এর বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন পরিচালক কল্লোল দাশ ও সাইফুদ্দীন আহমেদ মিনহাজ । কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর তিনটি বিভাগে ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক দেয়ালিকা প্রতিযোগিতা । বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে যুদ্ধদিনের লড়াই -প্রতিরোধ ও আত্মদান এর গল্প শোনা । মুক্তিযুদ্ধের স্থির আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী , মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন ও নাটক প্রদর্শন । সভায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন তাপস রায়, মিঠু শীল , আশরাফুল বশির চৌধুরী, পল্লব গুপ্ত বিপুল, খোরশেদ আলম সোহেল, চিন্ময় দাশ , আফসানা আহমেদ, মুক্তা ভৌমিক, রণি সিংহ , অভিজিত সিনহা, অমিত দে, নূর ই আলম সিদ্দিকী , কিশোর দাশ , রুবেল দত্ত প্রমুখ । সভায় স্বাধীনতা উৎসব কে সার্বিকভাবে সফল করে তোলার জন্য সংগঠনের সকল সদস্য ও শুভানুধ্যায়ী সহ নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

16388626_10211390833116083_820246777_o

অসীম জ্ঞান,অবাধ মনন ‘ সমাজ সমীক্ষা সংঘ: হাজার তরুণের কন্ঠস্বরের প্রতিধ্বনির স্বপ্ন ———————————————————–

প্রায় অন্ধকার শ্রেণীকক্ষ। মোমের আলো জ্বলছে । প্রতিটি বাক্য ও শব্দ নিয়ে আলোচনারত ক’জন মাত্র তরুণ । দুয়েকজন পেশায় শিক্ষক । অধিকাংশই ছাত্র । কয়েকজন সদ্য পেশায় । সময়কাল ২০০৬ । জানুয়ারির সন্ধ্যা । মুখাবয়ব অস্পষ্ট । কিন্ত, চোখগুলো যেন জ্বলছিল । আলো ঠিকরে বেরুচ্ছে। মোমের আলোর মতন দেদীপ্যমান । আমরা আলো জ্বালতে চেয়েছি । আগুনের সলতেটা আরো উস্কে দিতে চেয়েছি। প্রশ্নগুলো খুঁজতে চেয়েছি। অচিন পথে , অজানার সন্ধানে হাঁটতে চেয়েছি । তারুণ্যের অমিত সম্ভাবনায় আস্থা রাখতে চেয়েছি । লাখো শহীদের রক্তস্নাত পথ বেয়ে যে বাংলাদেশ হাঁটতে শুরু করেছিল , সে বাংলাদেশ কোন পথে আজ ? বাংলাদেশ কি ধারণ করছে লাখো শহীদের স্বপ্ন সাধ ? যথাযথভাবেই, আমরা প্রশ্নগুলো উত্থাপন করতে চেয়েছি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৈঠক থেকে ক্রমশ: সমাজ সমীক্ষা সংঘ’র আত্মপ্রকাশ । হাজার তরুণের কন্ঠস্বরের প্রতিধ্বনির স্বপ্নবাসনা নিয়ে । ‘আলো দিয়ে আলো জ্বালা’ : অবিরাম পথ অন্বেষা ———————————————————- আত্মপ্রকাশ এর এক দশকে শত শত তরুণ যুক্ত হয়েছেন সমাজ সমীক্ষা সংঘ’র পথচলায়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাঠচক্র, বিজ্ঞান বক্তৃতা , প্রকৃতি ও স্বদেশ বন্দনা , মহৎ কালোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের জীবন থেকে নেয়া শিক্ষায় স্মারক বক্তৃতা , উন্নয়ন ভাবনা , বাজেট প্রস্তাবনা , স্কুল ছাত্রদের দেয়ালিকা উৎসব , মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা তুলে ধরা , শ্রমে – স্বপ্নে বৈচিত্র্যময় পথে হেঁটেছে সমাজ সমীক্ষা সংঘ । তরুণ প্রজন্মের ভাবনা আর প্রবীণের অভিজ্ঞতার আলোকে ঋদ্ধ তার প্রকাশনা । পালকে যুক্ত অনন্য ভূষণ : লোক সংস্কৃতি উৎসব ——————————————————-

এ মাটিতে ফসল বুনতে বুনতে কৃষকের দরাজ কন্ঠে ভেসে ওঠে গান , হাওরের জলে রুপোলী চাঁদ যেখানে উদাসী করে তুলে মানুষের মন , উজানে বৈঠা বেয়ে সুরের মায়ায় মাঝি হারায় শোক তাপ কষ্ট বেদনা , উৎসব পার্বণে মাটিলগ্ন মানুষ পরষ্পরের কাছেই আসে , সেই মাটির কাছাকাছি মাটিবর্তী মানুষের জীবন যাপন ও প্রকাশ তার লোক সংস্কৃতির অনন্য সাধারণ ঐতিহ্য। ২০১০ সালে প্রথম লোক সংস্কৃতি উৎসব এর আয়োজন । ২০১৬ অবধি পাঁচটি সফল উৎসব হল । চট্টগ্রাম নগরীতে অংশগ্রহণের ব্যাপকতায়, বৈচিত্র্যের মাধূর্যে , তারুণ্যের স্বতঃস্ফূর্ততায়, সব বয়েসী মানুষের প্রাণিত ছোঁয়ায় লোক সংস্কৃতি উৎসব হয়ে উঠেছে সমাজ সমীক্ষা সংঘ’র রঙীন পালকে যুক্ত অনন্য ভূষণ । ৬ষ্ঠ লোক সংস্কৃতি উৎসব ( ২-৩ ফেব্রুয়ারি ): লোক রং এ রাংঙিয়ে দাও মনুষ্যত্বের আলো ——————————————————-

মাত্র দু’দিনের আয়োজন । রংধনু সাত রং ধারণের প্রয়াস । আবার বসছে লোক সংস্কৃতি উৎসব এর আসর । ৬ষ্ঠ সংস্কৃতি উৎসব এর কথাই বলছি । ০২- ০৩ ফেব্রুয়ারি । বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার । ডিসি হিল চত্বর । ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে লোক ঐতিহ্যের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা । শহীদ মিনার থেকে ডিসি হিল । লোক রং এ আলোকিত ডিসি হিলের মঞ্চে লোকগান, লোকনৃত্য, আদিবাসীদের নৃত্য, বাউল গান, আঞ্চলিক গান থাকছেই। অপরাপর পরিবেশনার সাথে , অযুত তরুণের ভালোবাসার বকুল ফুল নিয়ে ” জলের গান” , জীবন ও জগতের অপার বিষ্ময় নিয়ে “টুনটুন বাউল ” এর পরিবেশনা নিশ্চয়ই আলোড়িত করবে নগরবাসীকে। “আবার জমবে মেলা , বটতলা – হাটখোলা” – চলে আসুন ডিসি হিল প্রতিদিন বিকেল ৩ টায় । আসছে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার । আপনার যোগে সফল হোক লোক সংস্কৃতি উৎসব । আপনার অংশগ্রহণে লোক ঐতিহ্যের শোভাযাত্রা আরো প্রাণময় হোক ।

চট্টগ্রামে কর্নেল তাহের স্মারক বক্তৃতা

 

বাংলাদেশে নির্জলা সত্য বলতে কিছু নেই। গণতন্ত্রের পথে যেতে সবসময়ই সত্য জানতে হবে। কিন্তু এ দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তা নেই। দু’টি দলের মধ্যে দেশ ও সত্য বিভক্ত হয়ে গেছে।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর মুসলিম ইন্সটিটিউটে সমাজ সমীক্ষা সংঘ আয়োজিত শহীদ কর্নেল তাহের বীর উত্তম স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সমাজ সমীক্ষা সংঘের সভাপতি কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল, সাবেক ডাকসু ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ, জাসদের স্থায়ী কমিটিরর সদস্য শিরীন আখতার, বাসদের কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন এবং কর্নেল তাহেরের ছেলে আবু কায়সার যীশু।
অনুষ্ঠানে ‘তাহেরের স্বপ্ন’ শিরোনামে স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কর্নেল তাহেরের ছোট ভাই অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, কর্নেল তাহের এ দেশের লক্ষ কোটি মানুষের মুক্তি ও তাদের জন্য একটি সুখী সুন্দর সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। অন্যায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে তিনি সেসব স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, কর্নেল তাহেরের হত্যা জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। তাহেরের হত্যা ও বিচার প্রক্রিয়ার সত্যিকার তথ্য প্রকাশ করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
কর্নেল তাহেরের অগ্রসর হওয়ার পথে কিছুটা ভুল ছিল উল্লেখ করে অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, কর্নেল তাহের পরিবর্তনের ট্রাডিশনাল পথে এগুলেও কৃষক-শ্রমিকরা এর সঙ্গে ছিল না।
তিনি বলেন, সে সময়ের পরিবর্তনের সুবিধাভোগী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘মিস্টিরিয়াস মানুষ’ ছিলেন। জিয়া সবসময়ই সবার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন।
সমাজ সমীক্ষা সংঘের নির্বাহী পরিচালক শিহাব চৌধুরী বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি অভীক ওসমান।

 

TOP
Facebook