আমাদের সম্পর্কে

সমাজ সমীক্ষা সংঘ-এর পথ চলা দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের জাতীয় জীবনে যে সংকট চলে আসছে তা চিরস্থায়ী হতে পারে না। সে সংকট ও সমস্যার আবর্তে আমরা আবর্তিত তা ব্যাপক, গভীর ও জটিল। কিন’ এ জটিলতায় আমাদের নিরাশ হয়ে বসে থাকার কোন অবকাশ নেই। সমাজের প্রতি সব মানুষেরই কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। এ জাতি ও সমাজকে সংকট থেকে মুক্তকরার দায়িত্ব আমাদেরই। দেশ ও জাতিকে সন্দুরভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য নানা কাজের মধ্য দিয়ে অপরাপর জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। আর এই দায়িত্ব পালনে চাই ব্যাপক প্রস’তি, সদিচ্ছা, অনুসন্ধান ও অধ্যয়ন। এই লক্ষ্যে সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক গবেষনামূলক সংগঠন সমাজ সমীক্ষা সংঘ এর জন্ম।
মূলত ২০০৬ সালের ১১ মে এই সংগঠন আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান করলেও এর প্রতিষ্ঠার দিন হলো এ বছরের ১৮ মার্চ, ৮ চৈত্র ১৪১২। একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা হঠাৎ করে হয় না, বরং এর পেছনে দীর্ঘদিনের শ্রম, পরিকল্পনা থাকে। সমাজ সমীক্ষা সংঘ প্রতিষ্ঠার পূর্বে ও এধরনের ঘটনা ঘটেছে। মূলত ২০০৫ সালের শেষ দিকে এ ধরনের একটি সংগঠন গড়ে তোলার চিন-া-ভাবনা, আলাপ-আলোচনা শুরু হয় এর সাথে জড়িত কয়েকজনের মধ্যে। এরপর বেশ কয়েকবার বৈঠক, নতুন নতুন মানুষের অন-ভর্ূুক্তির এর পরিধিকে আরো বাড়িয়ে তোলে। একটি সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক কর্মোদ্যমী মানুষের প্রয়োজন। আর তাই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পূর্বে একদল কর্মোদ্যমী সংগঠিত মানুষের উদ্যোগে। আর তাই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পূর্বে একদল কর্মোদ্যমী মানুষের প্রয়োজন।  আর তাই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পূর্বে একদল কর্মোদ্যমী সংগঠিত মানুষের উদ্যোগে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ ও ১৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় দু’িট পাঠচক্র। এ দু’টি পাঠচক্রে সংগঠন গঠনের জন্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা করা হয়। শুরু হয় বৈঠকের পর বৈঠক। সবক’টি বৈঠকে মতামত নেয়া হয়েছে সে পর্যন- সংগঠিত দাশ সোমায় বাসায়। সংগঠনের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে সুদূর ঢাকা থেকে এসে ও গঠনতন্ত্র তৈরির জন্য সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে, চট্টগ্রাম মিউনিস্যাপাল মডেল হাই স্কুলের তৃতীয় তলার ছোট একটি রুমে পরবর্তীতে আরো বেশ কবার বৈঠকের পর এপর্যন্ত- সংগঠিত সংগঠনের সকল বন্ধুদের নিয়ে ১৮ মার্চ বিশদ বাঙলায় জন্ম নেয় এ সংগঠন, নামকরণ করা হয সমাজ সমীক্ষা সংঘ।প্রতিষ্ঠার পরে সমাজ সমীক্ষা সংঘ-এর প্রথম অনুষ্ঠান হলো ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবসে র‌্যালি সহকারে শহীদ মিনারে পুষ্পস-বক অর্পণ, আলোচনা সভা করা। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল যুব বিদ্রোহ দিবসে মাস্টার দা’র আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস-বক অর্পণ ও ৫ মে সংগঠনের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এ সংগঠন যে সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও প্রথম স্মারক ও প্রথমঃ ১১ মে ২০০৬, ২৮ বৈশাখ ১৪১৩ চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়। আত্ম প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনের প্রথম স্মারক বতৃতা। যে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম’ শিরোনামে মাস্টারদা সূর্যসেন স্মারক বতৃতা দেন উপমহাদশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যপক আনিসুজ্জামান।  এতে অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন,ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম,  প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি গোলাম মুস-াফা, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, পরিচালক কল্লোল দাশ, ঘোষণাপত্র ও পরবর্তী ছয় মাসের কর্ম পরিকল্পনা পাঠ করেন পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও উদিতি দাশ সোমা, পরিচালনা করেন রিপন আচার্য বিপ্লব। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অদিতি মহসিন। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

১.    দেশের মেধা, কায়িক ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও যথার্থ ব্যহারের মধ্য দিয়ে মাতৃভূমির উজ্জ্বল ভবিষৎ বিনির্মাণ, মুক্তচিন্ত ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, অসাম্প্রদায়িক উদার-গণতান্ত্রিক ও বঞ্চনা-বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন এবং এ লক্ষ্যে সমাজ সমীক্ষা সংঘ দেশের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন জনগণকে বিশেষত তরুণ সমাজকে সংগঠিত করবে।
২.    স্বদেশের ও আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন বিষয় ও তার সমাধান অন্বেষণের জন্য সংগঠনের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে।
৩.    এদেশের তরুণ সমাজকে অধ্যয়নে ও চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য দেশের বিভিন্ন সমস্যাবলী সম্পর্কে নিয়মিত সেমিনার, পাঠচক্র, কর্মশালার আয়োজন করবে।
৪.    নানা বিষয়ে গবেষণা, নারী-শিশু ও অধিকার বঞ্চিত জনগণসহ দেশের জনগণকে সামগ্রিক বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ, সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করবে।
৫.    দেশের সমস্যাবলী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করবে এবং সংগঠনের উদ্দেশ্য ও আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যে কোন আন্দোলনে সমর্থন যোগাবে।
৬.    দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, আলোচনার আয়োজন করবে।
৭.    বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেবে।
TOP
Facebook